সিএস, এসএ, আরএস, বিএস: পুরোনো দাগ এখন কোন দাগে? দুই জরিপের ম্যাপ মেলানোর উপায়

দাদার আমলের সিএস খতিয়ানে দাগ নম্বর আছে, বাবার নামে আরএস খতিয়ানে আরেক নম্বর, আর আজকের বিএস ম্যাপে জমিটা কোন দাগে — কেউ নিশ্চিত নয়। ওয়ারিশ, ক্রেতা আর আমিনদের এটা সবচেয়ে চেনা সমস্যা। একই মৌজার দুই জরিপের ম্যাপ মিলিয়ে দেখলেই প্রথম উত্তরটা পাওয়া যায়।

Read in English →

প্রতিটি নতুন জরিপে মৌজার ম্যাপ নতুন করে আঁকা হয়, দাগগুলোর নম্বর নতুন করে দেওয়া হয়। এক দাগ ভেঙে কয়েকটি হয়, কয়েকটি মিলে একটি হয়, রাস্তা বা খাল কাটার পর সীমানা বদলায়। তাই পুরোনো খতিয়ানের দাগ নম্বর দিয়ে নতুন ম্যাপে খুঁজলে প্রায়ই অন্য কারো জমি বের হয়। উপায় একটাই: দুই জরিপের ম্যাপ পাশাপাশি রেখে জায়গাটা মিলিয়ে দেখা।

১ মিনিটের ভিডিও: বিএস দাগ ৪৯৭১-এর নিচে কোন আরএস ও সিএস দাগ

জরিপগুলো কোনটা কবেকার

সময় জেলা ভেদে আলাদা, তবে মোটামুটি এই ক্রমে:

  • সিএস (ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে): ব্রিটিশ আমলে, মোটামুটি ১৮৮৮ থেকে ১৯৪০ সালের মধ্যে। দাগ ধরে প্রথম জরিপ; পুরোনো মালিকানার মূল সূত্র হিসেবে এখনো গুরুত্বপূর্ণ।
  • এসএ (স্টেট অ্যাকুইজিশন): জমিদারি প্রথা বাতিলের পর, ১৯৫০-এর দশকের শেষ থেকে ষাটের দশকের শুরুতে। অনেক জায়গায় এর ম্যাপ সিএস ম্যাপের খুব কাছাকাছি।
  • আরএস (রিভিশনাল সার্ভে): ষাট থেকে নব্বইয়ের দশকে, জেলা ভেদে। আগের জরিপ সংশোধন করে নতুন দখল ও ভাগ যোগ করা হয়; দেশের বড় অংশে এটাই দীর্ঘদিনের কাজের রেকর্ড।
  • বিএস / বিআরএস / সিটি জরিপ: স্বাধীনতার পরের জাতীয় জরিপ, অনেক জেলায় এখনো চলমান বা সদ্য প্রকাশিত। শহরে একে সিটি জরিপ বলা হয়। আজকের দাগ নম্বর এখানে।
  • দিয়ারা জরিপ: নদীতে জেগে ওঠা চর ও নদীর পাড়ের জমির বিশেষ জরিপ, যেখানে ভাঙন আর জেগে ওঠায় সীমানা বদলায়।

বেশিরভাগ সময় দরকার শেষ দুই জরিপ

নামজারি, কেনাবেচা বা ভাগের আলোচনায় সাধারণত শেষ দুই জরিপ মেলাতে হয়: আরএস আর বিএস, বা যেখানে আরএস নেই সেখানে এসএ আর বিএস। মালিকানা কোথা থেকে এল, সেটা খুঁজতে কখনো কখনো সিএসসহ তিনটি জরিপই একসাথে দেখতে হয় — একটু কম, তবে দরকার পড়ে।

দুই ম্যাপ মেলানোর মূল ভাবনা

দুই জরিপের ম্যাপ আলাদা সময়ে, আলাদা হাতে আঁকা; স্কেল এক হলেও কাগজ কুঁচকানো আর আঁকার ভিন্নতায় হুবহু মেলে না। তাই দুটোতেই আছে এমন কয়েকটি জায়গা বেছে নিয়ে মেলানো হয় — পুরোনো রাস্তার মোড়, খালের ক্রসিং, ব্রিজ, মৌজার সীমানার কোণ। এই বিন্দুগুলো মিললে বাকি ম্যাপও মোটামুটি মিলে যায়, আর বোঝা যায় নতুন দাগের নিচে পুরোনো কোন দাগ কতটুকু।

ধাপে ধাপে

১. একই মৌজার দুই জরিপের ম্যাপ নিন

যেমন একই মৌজার আরএস আর বিএস ম্যাপ। দুটির স্কেল ঠিক করুন (সাধারণত ১৬ ইঞ্চি = ১ মাইল)। শিট নম্বর মিলিয়ে নিন: একই এলাকা দুই জরিপে আলাদা শিটে পড়তে পারে।

২. দুই ম্যাপেই দাগগুলো আঁকুন

যে দাগগুলো তুলনা করবেন, প্রতিটি ম্যাপে সেগুলোর কোণে কোণে বিন্দু দিয়ে আঁকুন, আর দাগ নম্বর দিয়ে নাম দিন। নতুন ম্যাপে আপনার দাগ, আর পুরোনো ম্যাপে তার আশেপাশের দাগগুলো।

৩. দুই ম্যাপে একই বিন্দু বসান

এমন জায়গা বেছে নিন যা দুই জরিপেই আছে, আর দাগের কাছাকাছি। অন্তত দুটি বিন্দু লাগে; বিভিন্ন দিকে তিন-চারটি দিলে মিল ভালো হয়। নদীর পাড় বা পুকুরের কিনারা বাদ দিন — এগুলো জরিপে জরিপে বদলায়।

৪. পড়ে নিন: কোন দাগের নিচে কোনটি

মিলে গেলে প্রতিটি নতুন দাগের ওপর পুরোনো দাগগুলো বসে যায়। একটি বাস্তব উদাহরণ (চট্টগ্রামের একটি মৌজা):

  • বিএস দাগ ৪৯৭১ (১৮.৯৪৬ শতক): এর নিচে আরএস দাগ ১৮১৫-এর ১৪.৮১৮ শতক — অর্থাৎ বিএস দাগটির ৭৮%, আর আরএস দাগটির ৬৭%। সিএস দাগ ১৮১৫-এর ১৮.৮৪৭ শতক — বিএস দাগটির ৯৯%, সিএস দাগটির ৫৫%।
  • বিএস দাগ ৫০২৯ (৪.৯০৮ শতক): বেশিরভাগ (৮২%) আরএস দাগ ১৮২০-এ, একটু (১৪%) আরএস দাগ ১৮১৯-এ; সিএস দাগ ১৮২০-এ ৯২%।

দুটি শতাংশ একসাথে পড়ুন: "এই দাগের কত %" বলে নতুন দাগটি কোথা থেকে এসেছে; "ওই দাগের কত %" বলে পুরোনো দাগটির কতটুকু এখানে পড়েছে — বাকিটা অন্য নতুন দাগে গেছে।

মৌজা দাগ ও জমি পরিমাপ অ্যাপ আইকন

"মৌজা দাগ ও জমি পরিমাপ" অ্যাপে: তুলনামূলক নকশা (পেন্টাগ্রাফ)

এক জরিপের ম্যাপ খুলে ⋮ › তুলনামূলক নকশা (পেন্টাগ্রাফ) (Pro · লঞ্চ অফারে ফ্রি), তারপর একই মৌজার অন্য জরিপের ম্যাপ বেছে নিন। ওপরের ম্যাপে চিহ্ন দিন, নিচের ম্যাপে একই জায়গায় এখানে বসান। অনুসরণ চালু থাকলে দুই ম্যাপ একসাথে সরে। প্রতিটি জরিপের দাগ নিজের রঙে — সিএস লাল, এসএ কমলা, আরএস সবুজ, বিএস নীল; নিচের ম্যাপের + দিয়ে তৃতীয় জরিপ যোগ করুন। কোনো দাগে চাপলে দেখায় নিচে কোন দাগ, কত শতক ও কত %; আর PDF বোতাম দিয়ে নকশা ও মিলের তালিকার রিপোর্ট। মৌজা ম্যাপগুলো অ্যাপেই খোঁজা ও ডাউনলোড করা যায়। অ্যাপের পাতা

অ্যাপটি Google Play-তে, ফ্রি ও বিজ্ঞাপন ছাড়া। আরও ভিডিও: ইউটিউব চ্যানেল

Google Play-তে ইনস্টল করুন

যে ভুলগুলো এড়াবেন

  • শুধু দাগ নম্বর মেলানো। পুরোনো আর নতুন জরিপে একই নম্বর মানে একই জমি নয় — প্রায় কখনোই নয়।
  • দূরের বিন্দু দিয়ে মেলানো। শিটের এক কোণের দুটি বিন্দুতে মেলালে অন্য প্রান্তের দাগ সরে যায়। দাগের কাছে, চারপাশে বিন্দু দিন।
  • বদলে যাওয়া জায়গা বেছে নেওয়া। নদী, খাল, পুকুর, নতুন রাস্তা — জরিপে জরিপে এগুলোর অবস্থান বদলায়।
  • ফলাফলকে চূড়ান্ত ধরা। পুরোনো ম্যাপ হাতে আঁকা; বিন্দুর কাছে মিল ভালো, দূরে কম। সরু ফালির মতো ছোট মিল সাধারণত মেলানোর ত্রুটি, জমি নয়। আইনি কাজে আমিন ও ভূমি অফিসের মাপই চূড়ান্ত।

সংক্ষেপে

পুরোনো দাগের খোঁজে দাগ নম্বর নয়, জায়গা মেলান: একই মৌজার দুই জরিপের ম্যাপে দাগ আঁকুন, দুটোতেই আছে এমন কয়েকটি বিন্দু বসান, আর পড়ে নিন নতুন দাগের নিচে পুরোনো কোন দাগ কতটুকু। বেশিরভাগ সময় শেষ দুই জরিপই যথেষ্ট; মালিকানার শিকড় খুঁজতে সিএস পর্যন্ত যান।

সিএস আরএস বিএস পেন্টাগ্রাফ মৌজা ম্যাপ দাগ নম্বর

আরও পড়ুন

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

কোন দুই জরিপ মেলানো সবচেয়ে বেশি দরকার হয়?

সাধারণত শেষ দুটি: যেমন আরএস আর বিএস, বা যেখানে আরএস নেই সেখানে এসএ আর বিএস। মালিকানার মূল সূত্র খুঁজতে কখনো কখনো সিএসসহ তিনটি জরিপই একসাথে দেখতে হয়; অ্যাপে তিন বা তার বেশি জরিপ একসাথে খোলা যায়।

দুই ম্যাপ মেলাতে কতগুলো বিন্দু লাগে?

অন্তত দুটি। তবে দাগগুলোর কাছাকাছি, বিভিন্ন দিকে তিন-চারটি বিন্দু দিলে মিল অনেক ভালো হয়। অ্যাপ দেখায় সবচেয়ে বেশি অমিল কত ফুট, আর কোনো বিন্দু বাকিগুলোর সাথে না মিললে জানায়।

এটা কি অফিসিয়াল পেন্টাগ্রাফ?

না। এটা আনুমানিক তুলনা, দাগ খুঁজে পাওয়ার সহায়ক। নামজারি, মামলা বা সীমানা নির্ধারণে লাইসেন্সধারী আমিন (সার্ভেয়ার) ও ভূমি অফিসের মাপই চূড়ান্ত।

এই সুবিধার জন্য কি টাকা লাগে?

"তুলনামূলক নকশা" একটি Pro সুবিধা, তবে লঞ্চের সময় এটা ফ্রি। মৌজা ম্যাপ খোঁজা, ডাউনলোড আর দাগ মাপা ফ্রি। সব হিসাব ফোনেই হয়।