পুরোনো খতিয়ানের আনা-গণ্ডা অংশ কীভাবে পড়বেন — কার কত শতক জমি
খতিয়ানে মালিকের নামের পাশে লেখা ॥, ৷১০ বা ⁄১৷৴ — অনেকের কাছেই এগুলো ধাঁধার মতো। অথচ এই চিহ্ন থেকেই বোঝা যায় পুরো খতিয়ানের কত অংশ কার, আর সেই হিসাবে কার কত শতক জমি। একবার নিয়মটা বুঝলে আর কঠিন লাগে না।
সিএস, এসএ, আরএস বা পুরোনো বিএস খতিয়ানে একই দাগের জমি অনেক সময় কয়েকজনের নামে থাকে। প্রত্যেকের নামের পাশে লেখা থাকে তার "অংশ" — পুরো খতিয়ানের কত ভাগ তার। এই অংশ লেখা হয় আনা-গণ্ডার পুরোনো চিহ্নে। ওয়ারিশরা জমি ভাগের আলোচনায় বসলে, বা কেউ কোনো অংশ কিনতে চাইলে, প্রথম প্রশ্নই হয়: "এই অংশে আসলে কত শতক?"
অংশ মানে পুরো খতিয়ানের ভগ্নাংশ
খতিয়ানের অংশ জমির মাপ নয়, ভাগ। পুরো খতিয়ান হলো "১" বা ১৬ আনা। তার নিচের এককগুলো:
- ১ = ১৬ আনা (পুরো খতিয়ান)
- ১ আনা = ২০ গণ্ডা
- ১ গণ্ডা = ৪ কড়া
- ১ কড়া = ৩ ক্রান্তি
- ১ ক্রান্তি = ২০ তিল
অর্থাৎ পুরো খতিয়ান = ৭৬,৮০০ তিল। কারো অংশ ৮ আনা হলে তিনি পুরো খতিয়ানের অর্ধেকের মালিক; খতিয়ানে মোট ৫০ শতক থাকলে তার ভাগে ২৫ শতক, মোট ২০ শতক থাকলে ১০ শতক। তাই আগে খতিয়ানের মোট জমি জানতে হয়, তারপর অংশ।
চিহ্নগুলো চিনে নিন
খতিয়ানে আনা আর কড়া লেখা হয় দাঁড়ি-রেখার মতো চিহ্নে, গণ্ডা আর তিল লেখা হয় সংখ্যায়।
- আনা: ⁄ = ১, ৵ = ২, ৶ = ৩, ৷ = ৪, ৷⁄ = ৫ … ৷৷ = ৮ … ৸ = ১২ … ৸৶ = ১৫ আনা। অর্থাৎ ৷ মানে ৪ আনা, ৸ মানে ১২ আনা, আর তার সাথে ⁄ ৵ ৶ যোগ হয়।
- গণ্ডা: একটি সংখ্যা, ১ থেকে ১৯।
- কড়া: ৷ = ১, ৷৷ = ২, ৸ = ৩।
- ক্রান্তি: ৴ = ১, ৴৴ = ২।
- তিল: শেষে একটি সংখ্যা, ১ থেকে ১৯।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ: একই চিহ্ন, দুই মানে
৷ আর ৸ আনাতেও আছে, কড়াতেও আছে। পার্থক্যটা অবস্থানে: চিহ্নগুলো ক্রমানুসারে পড়া হয় — আনার চিহ্ন, গণ্ডার সংখ্যা, কড়ার চিহ্ন, ক্রান্তির চিহ্ন, তারপর তিলের সংখ্যা। তাই গণ্ডার সংখ্যার আগে ৷ মানে ৪ আনা, পরে মানে ১ কড়া। একইভাবে গণ্ডার আগে ⁄ মানে ১ আনা, পরে ৴ মানে ১ ক্রান্তি।
কয়েকটি উদাহরণ পড়ি
- ॥ = ৮ আনা = পুরো খতিয়ানের ১/২।
- ৷১০ = ৪ আনা ১০ গণ্ডা = ৯/৩২ (২৮.১২৫%)।
- ৶১০ = ৩ আনা ১০ গণ্ডা = ৭/৩২ (২১.৮৭৫%)।
- ⁄১৷৴ = ১ আনা ১ গণ্ডা ১ কড়া ১ ক্রান্তি = ঠিক ১/১৫। এখানে ১-এর পরের ৷ কড়া, কারণ গণ্ডার সংখ্যার পরে বসেছে।
- ⁄১৫৷৷ ১৪ = ১ আনা ১৫ গণ্ডা ২ কড়া ১৪ তিল ≈ ১/৯ (তিন ভাইয়ের সমান অংশে প্রায়ই এমন লেখা দেখা যায়)।
কার কত শতক: একটি পুরো উদাহরণ
ধরা যাক, একটি খতিয়ানে মোট জমি ৫০ শতক, আর তিনজন মালিক:
- মালিক ১: ॥ (৮ আনা) → ৫০ × ১/২ = ২৫ শতক
- মালিক ২: ৷১০ (৪ আনা ১০ গণ্ডা) → ৫০ × ৯/৩২ = ১৪.০৬৩ শতক
- মালিক ৩: ৶১০ (৩ আনা ১০ গণ্ডা) → ৫০ × ৭/৩২ = ১০.৯৩৮ শতক
যোগ করলে ৮ আনা + ৪ আনা ১০ গণ্ডা + ৩ আনা ১০ গণ্ডা = ১৬ আনা, আর জমি ২৫ + ১৪.০৬৩ + ১০.৯৩৮ = ৫০ শতক। হিসাব মিলে গেছে।
সব অংশ মিলে ১৬ আনা হলো কিনা দেখুন
খতিয়ানের সব মালিকের অংশ যোগ করলে ঠিক ১৬ আনা হওয়ার কথা। না হলে বুঝবেন হয় কারো অংশ বাদ পড়েছে, নয়তো কোনো চিহ্ন ভুল পড়া হয়েছে — পুরোনো হাতে লেখা বা ঝাপসা কপিতে এটা প্রায়ই হয়। কত বাকি বা কত বেশি, সেটা জানলে কোন অংশটা আবার দেখতে হবে তা ধরা সহজ হয়।
"মৌজা দাগ ও জমি পরিমাপ" অ্যাপে: খতিয়ানের অংশ
টুলস › খতিয়ানের অংশ (আনা-গণ্ডা) (Pro · লঞ্চ অফারে ফ্রি)। খতিয়ানের মোট জমি দিন (শতক, কাঠা, বিঘা, একর বা বর্গফুটে), তারপর প্রত্যেক মালিকের অংশ পাঁচটি ঘরে বেছে নিন — প্রতিটি তালিকায় সংখ্যার পাশে চিহ্ন দেওয়া থাকে, যেমন ৷৷⁄ = ৯ আনা — অথবা চিহ্নে লিখুন দিয়ে খতিয়ানে যেমন লেখা তেমনই লিখুন। অ্যাপ প্রত্যেক অংশ কথায়, ভগ্নাংশে ও জমিতে (শতক, বর্গফুট, কাঠা, কানি-গণ্ডা) দেখায়, আর সব অংশ মিলে ১৬ আনা হলো কিনা জানায়; না মিললে ঠিক কত আনা-গণ্ডা বাকি, তাও। ? চাপলে চিহ্নের পুরো তালিকা। হিসাব ফোনেই হয়, কোথাও পাঠানো হয় না। অ্যাপের পাতা
অ্যাপটি Google Play-তে, ফ্রি ও বিজ্ঞাপন ছাড়া।
Google Play-তে ইনস্টল করুনযে ভুলগুলো এড়াবেন
- মোট জমি না জেনে হিসাব। আনা একটা ভাগ; খতিয়ানের মোট জমি (সব দাগ মিলিয়ে) না জানলে শতক বের হয় না।
- ৷ চিহ্নের ভুল পাঠ। গণ্ডার সংখ্যার আগে না পরে — সেটা না দেখে পড়লে ৪ আনাকে ১ কড়া ধরে ফেলা খুব সহজ।
- অংশকে উত্তরাধিকার ধরে নেওয়া। খতিয়ানের অংশ হলো যারা রেকর্ডে আছেন তাদের ভাগ। কেউ মারা গেলে তার ওয়ারিশদের ভাগ আলাদা হিসাব — সরকারের উত্তরাধিকার ক্যালকুলেটর দিয়ে বের করুন।
- এই হিসাবকে দলিল ভাবা। এটা পড়ার সহায়ক। নামজারি, বাটোয়ারা বা মামলায় ভূমি অফিসের রেকর্ড, আইনজীবী ও আমিনই চূড়ান্ত।
সংক্ষেপে
পুরো খতিয়ান ১৬ আনা; আনা ২০ গণ্ডায়, গণ্ডা ৪ কড়ায়। চিহ্ন পড়ুন ক্রমানুসারে — আনা, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি, তিল। মোট জমিকে অংশের ভগ্নাংশ দিয়ে গুণ করলেই কার কত শতক, আর সব অংশ যোগ করে ১৬ আনা হলো কিনা দেখে নিলেই হিসাবটা নিশ্চিত।
আরও পড়ুন
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
১ আনা মানে কত জমি?
১ আনা মানে পুরো খতিয়ানের ১৬ ভাগের ১ ভাগ। খতিয়ানে মোট ৫০ শতক থাকলে ১ আনা = ৩.১২৫ শতক; মোট ৩২ শতক থাকলে ১ আনা = ২ শতক। আনা কোনো নির্দিষ্ট মাপের জমি নয়, খতিয়ানের অংশ।
খতিয়ানের সব অংশ যোগ করে ১৬ আনা না হলে কী বুঝব?
হয় কোনো মালিকের অংশ বাদ পড়েছে, নয়তো কোনো অংশ ভুল পড়া হয়েছে বা ভুল ছাপা আছে। কত আনা-গণ্ডা বাকি বা বেশি, সেটা দেখে খতিয়ানটি আবার মিলিয়ে নিন; দরকার হলে ভূমি অফিসে সার্টিফায়েড কপি দেখুন।
এই হিসাব কি আইনি বণ্টন?
না। এটা খতিয়ানে লেখা অংশ পড়ার হিসাব মাত্র। উত্তরাধিকার, নামজারি বা বাটোয়ারার জন্য সরকারের উত্তরাধিকার ক্যালকুলেটর, আইনজীবী ও ভূমি অফিসের সাহায্য নিন।
এই টুলের জন্য কি টাকা লাগে?
"খতিয়ানের অংশ" একটি Pro সুবিধা, তবে লঞ্চের সময় এটা ফ্রি। হিসাব পুরোপুরি ফোনেই হয়, কিছু কোথাও পাঠানো হয় না।