তারা আপনার সাথে থাকুন, একা থাকুন, অথবা আপনি প্রবাসে বা অন্য শহরে থেকে খেয়াল রাখুন — লক্ষ্য একটাই: এমন একটা ব্যবস্থা যা প্রতিদিন ফোন না করলেও কাজ করে।
নিজের ওষুধ খাওয়ার কথা মনে রাখা এক জিনিস, আর বয়স্ক মা-বাবার খেয়াল রাখা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চ্যালেঞ্জ। এখানে শুধু ভুলে যাওয়ার সমস্যা না — চোখে কম দেখা, কানে কম শোনা, একসাথে অনেকগুলো ওষুধ, আর অনেক ক্ষেত্রে দূরত্বও একটা বড় বাধা। আর এখানে ভুল হলে তার মাশুল অনেক বেশি হতে পারে একটা ভিটামিন মিস হওয়ার চেয়ে।
অনেক পরিবারেই এখন সন্তানরা ঢাকায় বা প্রবাসে থাকেন, আর মা-বাবা থাকেন নিজের শহরে বা গ্রামে। এই লেখায় দুই ধরনের পরিস্থিতির জন্যই ব্যবহারযোগ্য বাস্তব সমাধান দেওয়া হলো।
কয়েক সেকেন্ডে মিলিয়ে যাওয়া নীরব নোটিফিকেশন বয়স্কদের জন্য প্রায় কোনো কাজেই আসে না। এর বদলে যা কাজ করে:
প্রতিদিন ফোন করে "ওষুধ খেয়েছো তো?" জিজ্ঞেস করা আপনার জন্য যেমন ক্লান্তিকর, তাদের কাছে সেটা বিরক্তিকরও মনে হতে পারে। এর চেয়ে ভালো সমাধান হলো এমন একটা রিমাইন্ডার অ্যাপ ব্যবহার করা যেখানে দূর থেকেও দেখা যায় ডোজ নেওয়া হয়েছে কিনা — আপনি যখন সময় পান তখন দেখে নিলেন, তাদেরও বারবার জিজ্ঞেস করা লাগলো না।
দৈনিক ওষুধের দিকেই সবচেয়ে বেশি নজর যায়, কিন্তু ফলো-আপ চেকআপ আর ভ্যাকসিন মিস হওয়াও কম নয় — তিন মাস পরের প্রেসার চেকআপ, বার্ষিক চোখের পরীক্ষা। এগুলোর জন্য দৈনিক কোনো ট্রিগার থাকে না বলে সহজেই ভুলে যাওয়া যায়। এগুলোর জন্যও আগে থেকে রিমাইন্ডার সেট করুন, যাতে যাতায়াতের ব্যবস্থা করার সময় পাওয়া যায়।
বয়স্ক রোগীরা প্রায়ই একাধিক ডাক্তার দেখান — হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ, সাধারণ চিকিৎসক — আর প্রেসক্রিপশন, রিপোর্ট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে কাগজে বা ফোনের গ্যালারিতে। সব একজায়গায়, খোঁজা সহজ এমনভাবে রাখলে পরের অ্যাপয়েন্টমেন্টে অনেক সময় ও ঝামেলা বাঁচে।
ফোন লক থাকলেও পুরো স্ক্রিনজুড়ে জোরালো অ্যালার্ম বাজে। মিসড ডোজ অটোমেটিক ট্র্যাক হয়, ফলে পরিবারের কেউ বারবার ফোন না করেও দেখে নিতে পারে। ওজন, প্রেসার ও সুগারের রেকর্ড রাখার সুবিধা আছে। প্রেসক্রিপশন ও রিপোর্টের ছবি রাখার জন্য মেডিকেল রেকর্ডস সেকশন আছে, সাথে Google Drive ব্যাকআপ। অ্যাপটি সম্পূর্ণ ফ্রি ও বিজ্ঞাপনমুক্ত।
Google Play থেকে ইনস্টল করুনএই জায়গাটাতেই সবচেয়ে বেশি ভুল হয়। বয়স্ক মা-বাবা রিমাইন্ডার বা মনিটরিং নিয়ে অস্বস্তি বোধ করলে তার কারণ সাধারণত রিমাইন্ডার নিজে না, বরং "নজরদারি করা হচ্ছে" এই অনুভূতি। কিছু বিষয় খেয়াল রাখলে ভালো হয়:
সবার মা-বাবা অ্যাপ ব্যবহার করতে স্বচ্ছন্দ হবেন না, আর সেটা স্বাভাবিক। চোখে পড়ার মতো পিল বক্স আর পরিবারের একজন নির্ভরযোগ্য মানুষের নিয়মিত খোঁজ নেওয়া — এই দুটো মিলিয়েও ভালো কাজ হয়। অ্যাপ তখনই সবচেয়ে বেশি কাজে দেয় যখন এটা প্রতিদিনের এই চাপ কমায়, মানুষের যোগাযোগ পুরোপুরি বদলে দেয় না। যে ব্যবস্থা তারা সত্যিই মেনে চলবেন, সেটাই বেছে নিন।
নীরব নোটিফিকেশনের বদলে জোরালো, পুরো স্ক্রিনজুড়ে দেখা যায় এমন রিমাইন্ডার সেট করুন, আর এমন অ্যাপ ব্যবহার করুন যেখানে দূর থেকেও ডোজ হিস্টোরি দেখা যায় — তাহলে প্রতিদিন ফোন না করেও বুঝবেন কোনো ডোজ মিস হয়েছে কিনা।
বড় হরফের পিল অর্গানাইজারের সাথে জোরালো, পুরো স্ক্রিনজুড়ে দেখা যায় এমন রিমাইন্ডার সবচেয়ে ভালো কাজ করে। অ্যাপের ফন্ট সাইজ ও স্ক্রিন উজ্জ্বলতাও অ্যালার্মের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
এটাকে নজরদারি না ভেবে একটা যৌথ ব্যবস্থা হিসেবে দেখান। যতটা সম্ভব তাদের নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে দিন, আর যত্নের সুরে খোঁজ নিন — অধিকাংশ অস্বস্তির কারণ রিমাইন্ডার নয়, নজরদারির অনুভূতি।
হ্যাঁ, যদি তারা দীর্ঘমেয়াদী রোগের ওষুধ খান। কয়েক সপ্তাহের রিডিং একসাথে থাকলে ডাক্তারের জন্য একটা মাত্র রিডিংয়ের চেয়ে অনেক বেশি কাজে দেয়, আর সমস্যা আগেভাগে ধরাও সহজ হয়।